নিঝুম-নিস্তব্ধতায় জঙ্গলের জীবন
কংক্রিটের শহর থেকে মাঝে মধ্যে চলে আসুন বন-বনানীতে। হাঁপিয়ে উঠলে চলে আসতেই হয় বন-জঙ্গলে। চারপাশ সবুজে মোড়া হলে তো কথাই নেই। রাতের জঙ্গলে ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক শোনা যায়। পাখি -পক্ষির কলরব শুনতে পাবেন। আর রয়েছে জন্তু-জানোয়ারদের উঁকি-ঝুঁকি। গভীর রাতের নিঝুম-নিস্তব্ধতা কাটিয়ে দেয় জঙ্গলের জীবন। প্রবাহিত নদী থাকলে আরও তার রূপ। নদীর দুই প্রান্ত জঙ্গলময়। গঙ্গার এপার ওপার করা নয়,
জলে-জঙ্গলে রয়েছে বিপদের হাতছানি। জঙ্গলের মূল আকর্ষণ হল- ছবি তোলা। রকমারি পাখির ছবি তোলার ভিড় দেখা যায় । এখানে সকাল-বিকালের আকাশ নীল। নদী-জলাশয়ের জলে পড়ে তার ছায়া। মাছ যেমন রয়েছে তেমনি কুমির-কামটের উকিঁ-ঝুঁকি দেখতে পাবেন। ভাগ্য সুপ্রসন্ন থাকলে এই জঙ্গলের রাজাকে দেখতে পাবেন। দূষণ মুক্ত বাতাসে মনের প্রশান্তি।
এখানে পাখিরা নিরাপদে ও নির্ভয়ে থাকে। পৰ্যাপ্ত অক্সিজেন চাঙ্গা করে তুলবে শরীরকে। বাংলার পর্যটন মানচিত্রে একটা অন্য স্থান করে রেখেছে এই জল-জঙ্গল।পর্যটন ক্ষেত্রটিকে একটা অন্য মাত্রা যোগ করে তুলেছে।
তবে পর্যটকদের ভিড়ে পরিবেশে তার প্রভাব পড়ছে। বিপন্ন হয়ে উঠছে প্রাণীকূলের জীবন। বোট-লঞ্চ-নৌকা সহ নানা জলযানের আনাগোনা ও শব্দে অতিষ্ঠ হয়ে তাদের নিরাপদ আশ্রয় হারিয়ে ফেলছে। জল-জঙ্গলের আবহাওয়াতে প্লাস্টিক সহ নানা বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। পর্যটকরা সচেতন না হলে মুশকিল। পরিবেশের প্রভাব নিয়ে ভাবতে হবে। এতক্ষণ যে জল-জঙ্গলময় পরিবেশের বর্ণনা দিলাম সেটা হল বিশ্বখ্যাত ম্যানগ্রোভ অঞ্চল সুন্দরবন। মনে রাখবেন,এই বনাঞ্চল বেঁচে থাকলে পশ্চিমবঙ্গের জেলাগুলি সহ বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের অস্তিত্ব টিকে থাকবে। ঝড়-ঝঞ্ঝা সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মোকাবিলা প্রায়শই করে থাকে এই বাদাবন।

